নিজস্ব প্রতিবেদক:
পবিত্র ঈদুল আজহার আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। এরই মধ্যে রাজধানীর হাটগুলোতে কোরবানির পশু আসা শুরু করেছে। তবে এখনও হাট জমে ওঠেনি। আগামী শুক্রবার, শনিবার ও রোববার বেচাকেনা জমে উঠেবে বলে আশা ব্যাপারীদের। মূলত ওই তিনদিনই হবে পর্যাপ্ত বেচাকেনা।
মঙ্গলবার (১১ জুন) দুপুরে সরেজমিন কমলাপুর পশুর হাট ঘুরে দেখা যায়, এখনো পশু বেচাকেনা শুরু হয়নি। কমলাপুর টিটিপাড়া, মুগদা স্টেডিয়াম সংলগ্ন খালি জায়গা, গোপীবাগ ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাব মাঠ, দেওয়ানবাগ দরবার শরীফ সামনের রাস্তাসহ আশপাশের ফাঁকা সড়কজুড়ে সারি সারি বাঁশ গেড়ে-বেঁধে প্রস্তুত করা হয়েছে পশুর হাট।
এরই মধ্যে বিভিন্ন জেলা থেকে গরু-ছাগল আসছে। গরুগুলো নামিয়ে তা বেঁধে রাখছেন ব্যাপারীরা, করছেন পরিচর্যা। তবে পর্যাপ্ত পশু না আসায় হাটের অনেক জায়গা এখনো খালি রয়েছে। হাসিল কাটার কাউন্টারগুলো থাকলেও সেখানে এখনও পর্যন্ত কাউকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়নি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে রফিক ব্যাপারী ৪০টি গরু এনেছেন। বড়-ছোট সব ধরনের গরু আছে তার। তিনি বলেন, প্রতিবারই আমি এ হাটে গরু এনে বিক্রি করি। আমার মতো অনেকেই গরু-ছাগল নিয়ে আসছে। তখন হাট ভরে যাবে। অনেকে এসে ঘুরে ঘুরে গরু দেখে যাচ্ছেন, দামাদামিও করছেন। তবে ঈদের দুই থেকে তিন দিন আগে গরু বিক্রি শুরু হবে। এবার সব গরুই বিক্রি হবে আশা করছি, লাভও ভালো হবে।
আরেক ব্যাপারী মো. আশরাফ বলেন, গরুর পরিচর্যা ও খাবারের দাম অনেক বেশি। এ কারণে বিক্রির জন্য আনা ২০টি গরুকে এ পর্যন্ত আনতে অনেক টাকা খরচ করতে হয়েছে। বিক্রি হলে এসব খরচ উঠে লাভের মুখ দেখবো। বাকিটা আল্লাহর ওপর ভরসা।
তাদের মতো অন্য ব্যাপারী জানান, ঈদের দুই-তিন দিন আগে পশু বেচা-বিক্রি বেশি হয়। সেই হিসেবে এখনও হাতে সময় আছে। এ কারণে অনেক ব্যাপারী এখনও কমলাপুর পশুর হাটে গরু-ছাগল নিয়ে আসেননি। তবে আগামী দু’দিনে পশুতে হাট কানায় কানায় ভরে যাবে।
হাট কর্তৃপক্ষ বলছেন, তারা সব ধরনের নিয়মনীতি মেনে এখানে হাট বসিয়েছেন। হাটে যেন কোনও ধরনের দুর্বৃত্ত অঘটন ঘটাতে না পারে সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে হাটের লোকজন কাজ করছে। সেক্ষেত্রে অন্যান্য বারের তুলনায় এবারও শান্তিপূর্ণভাবে হাট শেষ করতে পারবেন বলে আশা তাদের। কোনও পশু যদি অসুস্থ হয় সেক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সংখ্যক চিকিৎসকের ব্যবস্থাও রেখেছেন তারা।
Leave a Reply